বয়স্ক রিক্সাওয়ালার গল্প

দুদিনের থেমে থেমে বৃষ্টির পরে আজকের সকালটি বেশ স্নিগ্ধতায় ভরা ছিল।বের হয়েই রোদেলা সকাল দেখে মনটাও ভরে গেল। চেপে বসলাম এক বয়স্ক রিক্সাওয়ালার রিক্সায়। স্নিগ্ধ মনটা নিমিষেই বিষন্নতায় আচ্ছন্ন হলো রিকশাওয়ালার সঙ্গে কথা বলে।

এই সেই রিক্সাওয়ালা। বয়স তার ৭৫। খুবই খারাপ লাগলো এই বয়সী একজন মানুষ আমাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে কষ্ট করে। কথা বাড়ালাম। জানা গেল, বাধ্য হয়েই রিক্সা চালান। দুই ছেলে দুই মেয়ে আছে। বড় ছেলে বৈবাহিকসূত্রে ঢাকায় একটা জমির মালিকও। আয় ইনকাম ভালো। ছোট ছেলে পায়লিং এর কাজ করে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে।

জানতে চাইলাম, ছেলেরা খোঁজ খবর রাখে কিনা। টাকা পয়সা দেয় কিনা।
বললেন, না।
দিনে ছয় ঘণ্টা রিক্সা চালিয়ে যে আয় হয় তাতেই স্ত্রীসহ ঢাকায় বেঁচে আছেন।

তবু তো বেঁচে আছেন। কিন্তু বেঁচে নেই সেই সন্তানগুলোর বিবেক, যাদের জন্য এই বাবাই দিনকে রাত করেছেন, রাতকে করেছেন দিন। এই বাবারাই ঢাকার রাস্তায় টাকার সন্ধানে ঘামে ভিজেছেন, ভিজিয়েছেন রাজপথ। এখনো এসব বাবা-মা’দের শরীর ভেজে; শুধু ঘামে নয়; চোখের জলেও। মায়েরা কাঁদতে পারে, প্রকাশ্যেই কাঁদে। বাবাদের যন্ত্রণা আরো বেশি।কান্না চেপে রাখতে হয়। কান্না চেপে রাখা বাবারা মাঝে মধ্যে শুধু দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। সেই দীর্ঘশ্বাস কান্নার চেয়েও ভয়ানক।

মনে করবার কারণ নেই, এসব চিত্রপট শুধু নিম্নবিত্তের এই রিক্সাওয়ালাদের ঘরেই দৃশ্যমান। তথাকথিত বড়লোকদের ঘরে এর বিস্তার আরো বেশি। না হলে বৃদ্ধাশ্রমগুলো হয় কীভাবে!

সম্ভবত মহানবীর এ্ররকম একটি বানী আছে- যে সন্তান তার বাবা/মাকে বৃদ্ধ অবস্থায় পেল, অথচ তার সেবা করে জান্নাত অর্জন করতে পারল না, তার জন্য ধ্বংস।

লিখেছেন Rafique Ruman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *