গরমে হিট স্ট্রোক থেকে প্রতিকার পাবেন যেভাবে

প্রতিবছর আমাদের দেশে যেভাবে গরম পড়ছে তাতে গরমকে আটকানো সম্ভব না হলেও একটু সতর্ক থাকলে আমরা অনেক অসুখের হাত থেকে বেঁচে যাব। গরমে মানুষের করণীয় কী তা সঠিকভাবে সকলের জানা না থাকতেও পারে। তাই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডাক্তার নূরে আলমের সাথে এই বিষয়ে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

প্রশ্ন: অতিরিক্ত গরমের ফলে মানুষের কী ধরনের অসুখ দেখা দিচ্ছে?
নূরে আলম: গরমে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের উপর উঠে যাচ্ছে, গরমে মানুষের এত বেশি ঘাম হচ্ছে যে মানুষ স্বাভাবিক অবস্থায় বিরাজ করতে পারছে না ফলে নানা রকম রোগ হচ্ছে। যারা সরাসরি সূর্যের আলোর কাছাকাছি থাকছে তাদের হিট স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।

প্রশ্ন: হিট স্ট্রোক অসুখ কী ধরনের?
নূরে আলম: হিট স্ট্রোক হলো এমন একটা রোগ যে রোগে মানুষ জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে। হিট স্ট্রোক এই তাপমাত্রায় কোন ওষুধ দিয়ে কমানো যায় না। প্যারসিটামল জাতীয় কোন ওষুধ কাজ করে না । এতে বিভিন্ন অর্গান ড্যামেজ হয়ে যায়, এমনকি রোগী মারাও যেতে পারে।

প্রশ্ন: হিট স্ট্রোক প্রতিকারের উপায় কী?
নূরে আলম: ঠান্ডা পানি দিয়ে স্প্রে করতে করতে তাপমাত্রা কমিয়ে আনতে হবে।

প্রশ্ন: এছাড়াও আরও কী কী রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে?
নূরে আলম: এছাড়াও গরম আবহাওয়াতে ঘাম বেশি হওয়ার কারনে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরী হচ্ছে ডিহাইড্রেশন হলে বিভিন্ন অর্গানের স্বাভাবিক কার্যক্রম কমে যায়। ফলে মানুষের ট্যাকিকার্ডিয়া বেড়ে যায়, হার্ট-ফেইলিয়র এর সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আবার গরম আবহাওয়াতে খাবার অল্পতেই পঁচে যায়। কারন ফার্মেন্টেশন দ্রুত হয় খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এই নষ্ট খাবার খেলে তার বিভিন্ন ধরনের খাবার জনিত রোগ দেয়া যায়। যেমন ডায়রিয়া আমাশয় ইত্যাদি

প্রশ্ন: এসব রোগীর মাত্রা কেমন?
নূরে আলম: আমাদের ওয়ার্ডে এখন বেশিরভাগ ডায়রিয়া রোগী। এবং এই ডায়রিয়াগুলো এত সিরিয়াস যে ৫ দিন পার হওয়ার পরও আমরা পানি স্যালাইন সহ অন্যান্য ব্যবস্থা দিয়েও তাদের ডায়রিয়া কমাতে পারছি না।

প্রশ্ন: গরমের ফলে আরো কী কী সমস্যা দেখা দিচ্ছে?
নূরে আলম: গরম আবহাওয়াতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যহত হচ্ছে। রোজার মধ্যে এই কষ্ট আরও বেশি বেড়ে গেছে। বাড়িতে বসবাস করার মত অনুপযোগী অবস্থা তৈরী হচ্ছে। যাদের টিনের বাড়ি তাদের কষ্ট আরও বেড়ে যাচ্ছে। গরমের জন্য কর্মক্ষমতাও কমে যাচ্ছে যে মানুষটা দৈনিক ৮ ঘন্টা পরিশ্রম করত সে এখন আগের মত কাজ করতে পারছে না। এতে অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রশ্ন: শিশুদের উপর এর প্রভাব কেমন?
নূরে আলম: শিশুদের সহনীয় ক্ষমতা সাধারন মানুষের চেয়ে কম। শিশু ও বৃদ্ধরা খুব বেশি ভুক্তভোগী। তাদেরকে সবসময় ফ্যানের বাতাসের নিচে রাখতে হবে, হাত পাখা দিয়ে বাতাস করতে হবে, বেশি বেশি পানি পান করাতে হবে।

প্রশ্ন: বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে রোগী চাপ কেমন?
নূরে আলম: শিশু ওয়ার্ডে রাস্তাতে বারান্দাতে কোথাও তিল পরিমান জায়গা নেই। প্রতিদিন এক ওয়ার্ডে ১৫০ এর বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছে। দুই ওয়ার্ডে ৩০০ এর উপরে।

প্রশ্ন: ডিহাইড্রেশন হয়ে গেলে করনীয় কী?
নূরে আলম: দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। ডাক্তার তখন তার অবস্থা বুঝে চিকিৎসা দিবেন।

প্রশ্ন: এসব রোগ থেকে প্রতিরোধ এর উপায় কী?
নূরে আলম: বেশি বেশি পানি খাওয়া, ডাবের পানি খেতে হবে। রোজার মধ্যে ইফতার এর পর থেকে সেহরির আগ পর্যন্ত পানি বেশি বেশি পান করতে হবে। পানিশূন্যতা রোধ করার জন্য এবং ঘাম এর ফলে বের হওয়া লবনের ঘাটতি পূরনের জন্য স্যালাইন খেতে হবে। লিকুইড জাতিয় খাবার খাবেন এবং মানুষ কে সহনীয় মাত্রায় যেমন ফ্যানের নিচে বা গাছ বা ছাদের নিচে এবং এসির নিচে থাকতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *