রাজশাহীতে মালটা বাগান

রাজশাহীতে আমের পাশাপাশি মালটা চাষও দিনে দিনে বাড়ছে। স্বাদে মানে অন্য দেশের মালটার চেয়ে কোন অংশেই কম নয় রাজশাহীর মালটা। আজকের সাক্ষাৎকার রাজশাহীর পবা থানার বরইকুড়ি গ্রাম থেকে নেওয়া।

প্রশ্ন: মালটা চাষের শুরুর গল্পটা জানতে চায়।
আহসান: মালটা চাষ সম্পর্কে আমি রাজশাহী ফল গবেষণা ইন্সটিটিউট থেকে জানতে পারি এবং তখন থেকেই মালটা চাষের প্রতি আমার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। আমার নিজের কিছু জমি আছে আর আমার ভাইয়ের কিছু সব মিলে সাড়ে সাত বিঘা জমির উপর মালটা চাষ করা পরিকল্পনা করি তারপর ভালো মানের চারা সিলেট থেকে সংগ্রহ করি। সিলেট থেকে চারা রাজশাহীতে নিয়ে আসতে চারা প্রতি দুইশত টাকা খরচ হয়। আমার বাগানে সাতশত মালটা গাছ আছে তার মধ্যে কিছু কমলার চারাও আছে।

প্রশ্ন: এ পর্যন্ত আপনার কত টাকা খরচ হয়েছে?
আহসান: এই দুই বছরে জমির খরচ লেবার খরচ সার কীটনাশক ও অন্যান্য খরচ বাবদ দশ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে।

প্রশ্ন: মালটা চাষের মাধ্যমে কি এই খরচ তোলা সম্ভব?
আহসান: অবশ্যই সম্ভব। আপনি দেখেন যেভাবে বাগানে মালটার গুটি এসেছে তাতে প্রতিটি গাছ থেকে আগামীবার এক মন করে মালটা পাওয়া যাবে। প্রথমবার হিসেবে এইবার খুব যে খারাপ মালটা গাছে আছে তা কিন্তু না। তাছাড়া গতবার কিছু কিছু গাছে মালটা ধরেছিলো তার স্বাদ যেমন ছিলো তাতে আমার মনে হয় আমাদের দেশে রাজশাহীর আমের মতই মালটারও চাহিদা বাড়তে পারে।

প্রশ্ন: মালটা চাষে আপনার সমস্যাগুলো কি কি?
আহসান: সমস্যা হচ্ছে মালটা বড় হলে জমিতে পাহারা দিতে হয় সারাদিন সারারাত নাহলে এলাকার মানুষ চুরি করে খেয়ে ফেলে। আবার এখন যে সমস্যাটা হচ্ছে তা হলো অতি খরাই আমের মত মালটা ঝরছে তার জন্য সেঁচের প্রয়োজন হচ্ছে। ফল যেহেতু বছরের অনেকটা সময় নিয়েই বাগানে থাকবে সেহেতু এর পরিচর্যার জন্য অনেক অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

ধন্যবাদ আপনাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *