খবরের মানুষের খবর

আহসান হাবীব তৃতীয় ব্যাচ বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়।

রাজশাহী জেলার প্রবীণ সাংবাদিক মোজাম্মেল। জন্ম ১৯৫৯ সালের ২০ শে ফেব্রুয়ারি চারঘাট উপজেলার খদ্দ গোবিন্দপুর গ্রামে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে অনেকটা নিঃস্ব হয়ে পড়েন এবং মাকে হারিয়েছেন বাবা হারানোর ৪ বছরের মাথায়, এসএসসি পরীক্ষার মাত্র ৯ দিন আগে ।

পরে এতিম মোজাম্মেল মামাতো বোনের বাসায় প্রায় এক যুগ কাটিয়ে দেন । ১৯৭৪ সালের দিকে নিয়মিত সাপ্তাহিক পত্রিকা পড়ার অভ্যাস করেন এবং সেই থেকে স্বপ্ন দেখেন তিনি সাংবাদিক হবেন।

১৯৮৬ সালের ২৩ শে নভেম্বর সাপ্তাহিক ঈশিতা পত্রিকার মধ্য দিয়ে তিনি  সাংবাদিকতা শুরু করেন এবং পরে অন্যতম দৈনিক মুক্ত বার্তা, সাপ্তাহিক নাটোর বার্তা ,দৈনিক দুর্জয় বাংলা এবং সর্বশেষ  ১৯৯৪ সালের প্রকাশিত সোনালী সংবাদের সাথে  যুক্ত হয়ে এখন পর্যন্ত আছেন।  তিনি সমাজের অন্যায়, দুর্নীতিবাজ ,সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধী চক্র ,সমাজবিরোধী কাজের সাথে যুক্তদের মুখোশ উন্মোচনে  নির্ভীক কলম সৈনিক।

আজও পথ থেকে পথে ঘুরে ঘুরে রোদ জল বৃষ্টি উপেক্ষা করে একটি ভাঙা সাইকেলে করে সংবাদ সংগ্রহ করেন তিনি
আজকে এমনই একজন সিনিয়র সাংবাদিকের সাথে আমরা কথা বলবো।

প্রশ্নঃ কেমন আছেন?
মোজাম্মেলঃ  ভালো আছি।

প্রশ্নঃ  কত বছর থেকে সাংবাদিকতা পেশায় রয়েছেন ?
মোজাম্মেলঃ প্রায় ৩২ বছর।

প্রশ্নঃ সাংবাদিকতা পেশায় কিভাবে এলেন ?
মোজাম্মেলঃ ছোটবেলা থেকে সংবাদ পড়তাম এবং সংবাদ পড়া থেকে দেশের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হওয়ার মধ্য দিয়ে এসেছি।

প্রশ্নঃ সাংবাদিকতা বেছে নিলেন কেন?
মোজাম্মেলঃ ছোটবেলায় বাবা-মা মারা যাওয়ার পর নিঃস্ব হয়ে পড়ি, সে সময়ে নিজের কষ্টটা আমি উপভোগ করেছি এবং মানুষের কষ্ট গুলো দেখেছি। স্বপ্ন ছিল এই  কষ্টের কথাগুলো যদি আমি  তুলে ধরতে পারতাম এবং সে সময় সাংবাদিক স্বল্প থাকার জন্য নিজেকে সাংবাদিক হওয়ার জন্য স্বপ্ন দেখতাম।

প্রশ্নঃ এত বছরের সাংবাদিকতার জীবনে চ্যালেঞ্জ কি ছিল?
মোজাম্মেলঃ ২০০৭ সালে পাঁচ জঙ্গি আমাকে অপহরণ করে ৪০ মিনিট জিম্মি করে রেখেছিল।

প্রশ্নঃ সাংবাদিকতার সাথে সাধারণ মানুষের মিল গুলো কেমন?
মোজাম্মেলঃ  সাংবাদিকতা করতে হলে মানুষকে মানুষ মনে করতে হবে যে মানুষের মধ্যে আত্ম অহংকার রয়েছে তার সাংবাদিকতা পেশায় আসার দরকার নেই, আমার সাংবাদিকতার কাজ মানুষকে নিয়ে সমাজকে নিয়ে দেশকে নিয়ে কাজ করা।

প্রশ্নঃ আপনার সাংবাদিকতার জীবনে ক্যামেরার ব্যবহার করেন কবে থেকে? সে ক্যামেরায় প্রথম ছবিটা কি ছিল?
মোজাম্মেলঃ ১৯৯৫ সালে ইয়াশিকা ফিট ফোকাস ক্যামেরার মধ্যে দিয়ে প্রথম ছবি তুলি ,একটি কিশোর হত্যার ছবি ছিল।

প্রশ্নঃ  সাংবাদিকতায় আপনার লেখা প্রথম হেডলাইন টি কি ছিল?
মোজাম্মেলঃ আমার প্রথম পত্রিকা সাপ্তাহিক ঈশিতা, হেডলাইন হলো ঘাতক ট্রাক কেড়ে নিল সবজি ব্যবসায়ীর প্রাণ।

প্রশ্নঃ দীর্ঘ সাংবাদিকতার জীবনে কতগুলো সংবাদ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন?
মোজাম্মেলঃ প্রায় ১০০ টি প্রশিক্ষণ নিয়েছি ও চারটি পুরস্কার পেয়েছি ।

প্রশ্নঃ  আজকের মতো এতো তথ্যপ্রযুক্তি ছিলনা, সেসময় নিউজ গুলো কি ভাবে লিখতেন এবং পাঠাতেন?
মোজাম্মেলঃ নিউজ গুলো কখনো দোয়াত-কলম এ লিখেছি পরে কলমে লিখেছি এখন কম্পিউটারে লিখি সেই সময়ই নিউজগুলো পাঠাতাম পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পরে ফ্যাক্সের মাধ্যমে।

প্রশ্নঃ সাংবাদিকতার শ্রেষ্ঠ পুরস্কার গুলো মধ্যে অন্যতম কোন গুলো ছিল ?
মোজাম্মেলঃ ২০১৪ সালে সোনালী সংবাদ এর শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি হিসেবে পুরস্কার পেয়েছি, চারঘাটের শ্রেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে পুরস্কার পেয়েছি এবং  ২০০৭ সালে নারী অধিকার ও নারী নির্যাতন সংবাদ প্রকাশের উপরে এ সি ডি কতৃক পুরস্কার পেয়েছি।

প্রশ্নঃ নারী অধিকার ও নারী নির্যাতনের হেডলাইন গুলো কি ছিল?
মোজাম্মেলঃ জুলিয়ার স্বপ্ন পূরণ হতে দিল না বখাটেরা ধর্ষণের পর হত্যা, মৌসুমির এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া হলো না।

প্রশ্নঃ আগামী দিনে তরুণ  যারা এ পেশায় স্থান করে নিতে চাই তাদের উদ্দেশ্যে আপনার মতামত?
মোজাম্মেলঃ তরুণরা দেশের সম্পদ এখন তথ্য প্রযুক্তির যুগ, যার ভেতরে দেশ প্রেম নেই, ভালোবাসা নেই, তার সাংবাদিকতায় আসার দরকার নেই, দীপ্ত চিন্তা নিয়ে সাংবাদিকতায় এগিয়ে যেতে হবে, কাউকে আক্রোশ করে কোন সংবাদ প্রকাশ না করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে হবে, এবং সোর্সকে বেশি মূল্যায়ন করতে।

পদ্মা বড়ালের মোহনায় কথা বলতে বলতে দিনের সূর্য হেলে পড়েছে পশ্চিম আকাশে
তখন আমাদের কথা শেষ হয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *