টানাপোড়নের সংসার চালাতে গৃহিনী থেকে সেলাইকর্মী

দুজন মানুষের সংসারে একজনের উপার্জনে চলে সংসার, তবে যে অর্থ উপার্জন হয় তাও পর্যাপ্ত না সংসার চালানোর জন্য। এমনি একজন সংগ্রামী মানুষ  যার নাম “ছবি”। স্বামী একটি ছোট চাকরি করতে সেটা চলে যাওয়ায় সেলাই মেশিন চালিয়ে সংসারের জন্য অর্থ উপার্জন করেন ছবি। এই সাক্ষাৎকারটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম খালেদা জিয়া হলের সামনে থেকে ০৩/০২/২০১৯ তারিখ বেলা ১.০০ টার সময় নেওয়া হয়।

প্রশ্নঃ সংসারে উপার্জনের দায়িত্বটা আপনাকে নেওয়া লাগলো কেনো?
ছবিঃ সংসারে আমরা দুজন মানুষ, স্বামী একটা ছোট চাকরি করতো সেটা এক সময় চলে যায়। তখন থেকে সংসার চালাতে আমি এই কাজ শুরু করি।

প্রশ্নঃ কতদিন থেকে আপনি সেলাই এর কাজ করেন?
ছবিঃ তেরো বছর থেকে।

প্রশ্নঃ কি কি কাজ করেন ?
ছবিঃ সেলাই এর যাবতীয় কাজ পারি।

প্রশ্নঃ আপনার দোকানের কাস্টমার কারা?
ছবিঃ আমার এখানে মেয়েরা বেশি আসে মাঝে মাঝে ছেলেরাও আসে তবে খুব কম।

প্রশ্নঃ প্রতিটি কাজের জন্য কেমন টাকা নেন?
ছবিঃ যেহেতে এখানে সবাই ছাত্র ছাত্রী তাই কাজ করে এদের কাছ থেকে বেশি টাকা নেওয়া যায় না।

প্রশ্নঃ যে টাকা আয় হয় তাতে কি আপনার সংসার চলে?
ছবিঃ চলে তবে খুব কষ্ট হয়। আমি তো খুব বেশি টাকা আয় করতে পারি না তাছাড়া যে বাসায় থাকি সেটার ভাড়া দিতে হয় তাই সব মিলিয়ে অনেক কষ্টের মধ্যেই জীবন যাপন করি।

প্রশ্নঃ আপনি তো সন্ধ্যার পর বাসায় সেলাইয়ের কাজ করতে পারেন।
ছবিঃ আমার সামর্থ নাই, আমি যেখানে থাকি সেখানে একটি মাত্র ঘর সেলাই সেলাই মেশিন রাখারও জায়গা নাই এ জন্য কিছু করে উঠতে পারি না। একটা মাত্র ছোট রুম তার মধ্যেই সব কিছু।

প্রশ্নঃ সারাদিনে কতক্ষন কাজ করেন?
ছবিঃ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

প্রশ্নঃ আপনার কাছে কাজের চাপ কেমন থাকে?
ছবিঃ মোটামোটি চাপ থাকে খুব বেশি যে তা না।

প্রশ্নঃ এই কাজের পাশাপাশি অন্য কাজ করেন?
ছবিঃ না অন্য কোন কাজ করি না।

প্রশ্নঃ আপনি যখন এখানে কাজে আসেন তখন বাসায় রান্না করে কে?
ছবিঃ আমি খুব ভোরে উঠে বাসার সব কাজ সেরে রান্না করে তারপর এখানে আসি।

প্রশ্নঃ এই যে আপনি মেয়ে হয়ে কাজ করছেন মানুষ যদি আপনাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করে আপনার কেমন লাগবে?
ছবিঃ দেখেন জীবনটা আমার বেচে থাকার জন্য আমি লড়াই করছি এতে মানুষ আমাকে নিয়ে যা খুশি ভাবতে পারে আমার তাতে কিছু যায় আসে না। আমি তো খারাপ কোন কাজ করছি না তাই এতে আমার কোন লজ্জা নেই বা কে কি বললো তাতে আমার আগ্রহ নেই।

ধন্যবাদ আপনাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *