ফুটপাতের দোকানগুলোর জন্য লাভবান হচ্ছেন যারা

রাজশাহীর অন্যতম শহর ব্যস্ত এলাকা সাহেব বাজার। এখানে দিনের সবটুকু সময় যানজট লেগে থাকে তার কারন হচ্ছে ফুটপাতের অবৈধ দোকানগুলো। তাহলে কেনো এসব দোকান তুলে দেওয়া হচ্ছে না এবং দোকানগুলো তুলে দিলে কারা বেশি সমস্যায় পড়বেন? এই বিষয়ে ফুটপাতের দোকানদারদের সাথে সাক্ষাৎকার।

প্রশ্নঃ রাজশাহী শহরে কতদিন যাবত ফুটপাতে ব্যবসা করছেন?
দেবাশীষঃ সাত বছর ধরে এই ব্যবসা করছি।

প্রশ্নঃ ব্যবসায় কতটাকা বিনিয়োগ করেছেন?
দেবাশীষঃ এক লক্ষ টাকা।

প্রশ্নঃ প্রতিটি কাপড় প্রতি আপনাদের লাভ কেমন থাকে?
দেবাশীষঃ দশটাকা, বিশটাকা আবার কখনো কখনো সমান সমান থাকে।

প্রশ্নঃ এখান থেকে যে আয় করেন তাতে আপনার সংসার চলে?
দেবাশীষঃ সংসারে ছেলে মেয়ে স্ত্রী নিয়ে চলে কোনো রকম।

প্রশ্নঃ আপনার দোকানে কেমন বেচা বিক্রি হয়?
দেবাশীষঃ হয় মোটামোটি।

প্রশ্নঃ কোন ধরনের মানুষ আপনার দোকানে কাপড় কেনে?
দেবাশীষঃ সব মানুষই আসে তবে যাদের বড় বড় দোকানে কেনার সামর্থ থাকে না তারাই বেশি আসে। এছাড়াও ছাত্র ছাত্রীরাও এখানে কাপড় কিনতে আসে।

প্রশ্নঃ এইগুলো কি পুরাতন কাপড়?
দেবাশীষঃ না এইগুলো পুরাতন হবে কেনো? এইসব কাপড় আমরা ঢাকা থেকে নিয়ে আসি। মার্কেটে যেসব কাপড় থাকে ঐসব যেখান থেকে আনা হয় এইসবও সেখান থেকে নিয়ে আসা হয় তবে এখানে ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী কাপড় রাখা হয়।

প্রশ্নঃ ফুটপাতের এই দোকানগুলো যদি রাতারাতি তুলে দেওয়া হয় তাহলে কারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে?
দেবাশীষঃ হতো কেউ ই হবে না আবার হলে ক্রেতাদের হতে পারে। কারন আমরা তো যেদিকেই হোক আবার ব্যবসা শুরু করতে পারবো কিন্তু যে ক্রেতা আছে তারা কিন্তু প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো বড় বড় দোকান থেকে কিনে খুব বেশি লাভ করতে পারবে না। ফলে ক্রেতারা বেশি সমস্যায় পড়বে।

প্রশ্নঃ কোন সিজিনে কাপড়ের ব্যবসা ভালো হয় ? যখন কাপড়ের ব্যবসায় বেচা বিক্রি কমে যায় তখন সংসার কিভাবে চলে?
দেবাশীষঃ শীতের শুরুতে এবং রমজান মাসে ভালো ব্যবসা হয় তবে যখন ব্যবসা খারাপ চলে তখন সংসার চালাতে খুব সমস্যা পড়তে হয় ।

প্রশ্নঃ এখানে ব্যবসা করার জন্য কি ভাড়া দিতে হয়?
দেবাশীষঃ না ভাড়া দিতে হয় না।

প্রশ্নঃ কি কি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়?
দেবাশীষঃ মাঝে মাঝে প্রশাসনিক চাপ আসে তখন উঠে যেতে হয় তারপর আবার কিছুদিন পর চলে আসি। তাছাড়া অন্য কোন সমস্যা নাই।

ধন্যবাদ আপনাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *