বন্দী হচ্ছে টিয়া পাখি

আদিবাসী গ্রামের একটি পরিবারে বাস করে কাঞ্চন, তার পরিবারের সদস্য তিন জন। কাঞ্চনের বাবা সারা বছর কৃষি কাজের সাথে যুক্ত থাকলেও বছরের কিছু সময় তার বাবার কোন কাজ থাকে না। এই সময় কাঞ্চন তার পরিবারকে সাহায্য করার জন্য বিভিন্ন কাজ করে থাকে যেমন, বিশেষ কিছু জায়গার মাটি খুড়ে কুচা মাছ( সাপের মত দেখতে) ধরা ও গাছের ভেতর গর্ত থেকে পাখির বাচ্চা ধরা।

কাঞ্চন সব পাখির জন্য গাছে উঠে না সে শুধু টিয়া পাখি ও ময়না পাখির জন্য গাছের সব চেয়ে উঁচু ডালেও উঠতে প্রস্তুত থাকে। গাছের সব থেকে উঁচু ডালে উঠতে তার একদম ভয় করে না কারন সে ছোট থেকেই এসব কাজে পটু। একটি টিয়া পাখি ধরতে পারলে সে তা দুইশত থেকে তিনশত টাকায় খুব সহজে বিক্রি করতে পারে। কখনো কখনো পাখির দোকানের মালিক তাকে অগ্রিম টাকা দিয়ে যায় টিয়া পাখি ধরবার জন্য।

পাখি দোকানের মালিক কাঞ্চনকে অগ্রিম টাকা দিয়েছে কারন একজন পাখি প্রেমী চায় তার সংগ্রহে একটি টিয়া পাখি রাখবে। টিয়া পাখি দেখতে সুন্দর ও খুব সহজে কথা শিখে যায় এ জন্য এর চাহিদা খুব বেশি।

চাহিদা থাকায় শুধু কাঞ্চন না এর মত আরো অনেকে টাকার বিনিময়ে টিয়া পাখি ধরে বিক্রি করছে। ফলে আমাদের চারপাশ থেকে কমে যাচ্ছে টিয়া পাখিসহ অন্যান্য পাখিগুলোও। এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে টিয়া পাখি দেখাতে পারবো না।

তাই সময় থাকতে পাখি শিকার ও পাখি ক্রয় বিক্রয় থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে আসুন আমাদের চারপাশকে সুন্দর করে তুলি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর কিছু বাঁচিয়ে রাখি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *