বেকার মুক্ত দেশ গড়তে ইউসেপ

ইউসেপ হচ্ছে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান যেখানে বিনামূল্যে টেকনিক্যাল ট্রেনিং ও ট্রেনিং শেষে চাকরির সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে। পূর্বে এই প্রতিষ্ঠানে শুধু মাত্র টেকনিক্যাল স্কুলের ছেলে মেয়ে ভর্তির সুযোগ পেতো কিন্তু বর্তমানে সকল প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছাত্রীরা এই সুযোগ পেয়ে থাকে।

এখানে ভর্তির জন্য কোন বয়সের কোন বাধা নেই, তাই সকল বয়সের শিক্ষার্থী এখান থেকে ট্রেনিং গ্রহন করে নিজে উদ্যোগতা হতে পারেন এবং চাইলে চাকরিতে যুক্ত হতে পারেন।

শিক্ষার্থীদের  জন্য এখানে রয়েছে বিশাল একটি ভবন এবং পর্যাপ্ত পরিমান যায়গা। যাতায়াত করার জন্য থাকে পরিবহন ব্যবস্থা। এই সকল সুবিধা একজন শিক্ষার্থী বিনামূল্যে পেয়ে থাকে।

এই প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষিকার সাথে কথা বলে আরো জানা গিয়েছে যে পূর্বে এখানে শিক্ষার্থীদের ঋন দেওয়া হতো এবং বিদেশ যাওয়ার জন্য ঋন প্রদান করা হতো। তবে কিছু কিছু সমস্যার জন্য এই প্রকৃয়াগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।

এখানে রয়েছে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দক্ষ প্রশিক্ষক এবং কাজের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ।

এই প্রতিষ্ঠানের একজন সহকারী ট্রেইনা শহীদা শাহনা নাসরিন  আমাদের যে তথ্য দিয়েছেন তা তুলে ধরছি।

প্রশ্নঃ কেনো ইউসেপ?
নাসরিনঃ ইউসেপ হচ্ছে, আন্ডার চিলড্রেন এডুকেশন প্রোগ্রাম। ইউসেপ এর মূল লক্ষ হচ্ছে দরিদ্র ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের টেকনিক্যাল শিক্ষা দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলা এবং ঝরে পড়া শিশুদের পুনরায় শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসা।

প্রশ্নঃ কারা পড়তে পারবে এখানে?
নাসরিনঃ আগেকার দিনে এখানে শুধু টেকনিক্যাল স্কুলের শিক্ষার্থীরা পড়ার সুযোগ পেতো তবে বর্তমানে আমরা সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ও যারা পড়াশোনা বাদ দিয়েছে তাদেরও প্রশিক্ষন দিয়ে থাকি এছাড়াও এখানে অনেক গৃহিনী আসেন যারা Tailoring And Dressmaking এর কাজ শিখতে পছন্দ করে।

প্রশ্নঃ ঠিক কোন কোন কারনে আপনাদের এখান থেকে প্রশিক্ষন নিবে শিক্ষার্থীরা?
নাসরিনঃ আমাদের এখানে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, সুদক্ষ প্রশিক্ষকগন আছেন এছাড়াও আমরা প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে পর্যাপ্ত পরিমান সময় দিয়ে প্রশিক্ষন দিয়ে থাকি তাই একজন শিক্ষার্থী চাইলেও এখান থেকে অদক্ষ হয়ে বের হতে পারবে না।

প্রশ্নঃ এখানে প্রশিক্ষন গ্রহনের জন্য খরচ কেমন?
নাসরিনঃ এখানে প্রশিক্ষন গ্রহন করার জন্য কোন খরচ হয় না।

প্রশ্নঃ এখানে প্রশিক্ষনের পর কি কোন সার্টিফিকেট দেওয়া হয়?
নাসরিনঃ হ্যাঁ দেওয়া হয়। এই সার্টিফিকেট সিভির সাথে যুক্ত করে কাজের অভিজ্ঞতা দেখানো যেতে পারে। চাকরির ক্ষেত্রে সিভিটি তখন গুরুত্ব সহকারে দেখবে।

প্রশ্নঃ প্রশিক্ষন গ্রহনের পর কি সার্টিফিকেট প্রদান করেই আপনাদের কাজ শেষ?
নাসরিনঃ না। আমরা প্রশিক্ষন সম্পন্ন করার পর নিজ নিজ কাজের উপর আমাদের মনোনিত কোম্পানিতে কাজের সুযোগ করে দেই। তবে কাজের ক্ষেত্রে আমরা জোর দেইনা। সে যদি প্রশিক্ষন নিয়ে নিজে কিছু করতে চায় তাহলে আমরা সে ক্ষেত্রে তার স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেয়। তবে কেউ যদি চায় চাকরি করতে তাহলে তার জন্য আমরা চাকরির ব্যবস্থা করি।

প্রশ্নঃ কি কি বিষয়ে প্রশিক্ষন দেওয়া হয়?
নাসরিনঃ 1. Auto Mechanics.2. Machinist.3. Welder.4. Electrician.5. Consumer Electronics.6. Electronic Installation and Maintenance.7. Industrial swing operation.8. Electronic Assembly Technician.9. Tailoring And Dressmaking.10. Motorcycle Service Mechanical.

প্রশ্নঃ কি কি সুযোগ দেওয়া হয়?
নাসরিনঃ আগে এখান থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য লোন প্রদান ব্যবস্থা ছিল এবং বিদেশ যাওয়ার জন্য লোন দেওয়া হতো তবে লোন গ্রহন করে তা আর ফেরত না দেওয়ায় সেই সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে কেউ যদি নিজ উদ্দোগে আমাদের সার্টিফিকেট নিয়ে বিদেশ যায় তবে কাজের সুযোগ পাবে।

প্রশ্নঃ প্রশিক্ষনের মেয়াদ কতদিন?
নাসরিনঃ বিভিন্ন ট্রেডে বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষন দেওয়া হয়ে থাকে দেড় মাস, তিন মাস, ছয় মাস। এই সময়ের মধ্যেই আমরা প্রশিক্ষন সম্পন্ন করি।

প্রশ্নঃ ইউসেপ থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে পাঁচ ছয় জন মিলে একটি প্রতিষ্ঠান দাড় করানো যায় তো এরা করছে না কেনো?
নাসরিনঃ কে বললো করছে না? অবশ্যই এরা এইসকল কাজ করছে তাতে আমরা সাহায্য করে যাচ্ছি। আমাদের জব প্লেসমেন্ট সেকশন আছে সেখানে গেলেই সব তথ্য পাওয়া যাবে। আমাদের শিক্ষার্থীরা সারাদেশে ভালো ভালো কাজের সাথে জড়িত আছে।

প্রশ্নঃ কতজন শিক্ষক আছেন এই প্রতিষ্ঠানে?
নাসরিনঃ শিক্ষক তো এখানে আসে যাই তবে এখন পয়চাল্লিশ জন আছেন।

প্রশ্নঃ বিদেশি পণ্যের কাছে আমাদের পণ্য কতটা টিকতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
নাসরিনঃ দেখেন আমরা কিন্তু এখনো গ্রামিণ শাড়ি থ্রি পিস এসব ব্যবহার করি। তবে বিভিন্ন পণ্য ক্ষেত্রে মানুষের বিভিন্ন চাহিদা থাকেই।

প্রশ্নঃ বাংলাদেশে তৈরিকৃত ইলেকট্রিক্যাল পণ্যগুলো কেমন?
নাসরিনঃ বাংলাদেশে যেসব দেশি বিদেশি পণ্য পাওয়া যায় সেসব তৈরী অবস্থায় আমাদের দেশে আসে না আর প্রত্যেকটি যন্ত্রপাতির সেটিংস করে একটি সম্পুর্ন অবস্থার রুপদান কিন্তু আমাদের টেকনিক্যাল প্রশিক্ষন প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরাই করছে। আমি একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বলছি বর্তমানে আমাদের দেশের ইলেকট্রিক্যাল পণ্যের মান অত্যান্ত ভাল। আমি নিজেও ব্যবহার করি।

ধন্যবাদ ম্যাম আপনাকে।

পরিশেষে একটা কথা বলবো তা হচ্ছে আমাদের সরকার এবং বেসরকারি অলাভজন প্রতিষ্ঠান বর্তমানে ব্যপকহারে টেকনিক্যাল প্রশিক্ষন ও বেকার দুরীকরনের চেষ্টা চালাচ্ছে তাই প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী ও যাদের এই সুযোগের প্রয়োজন তাদের কাছে এইসকল খবরগুলো আমরা পৌছে দেওয়ার চেষ্টা করবো যেনো আমাদের দেশ খুব শীগ্রই উন্নত দেশের সারিতে দাঁড়ানোর গৌরব অর্জন করতে পারে। আসুন আজ থেকে প্রতিজ্ঞা করি আমরা বেকার থাকবো না বেকার রাখবো না কাউকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *