নারী স্বাধীনতা শুধুই কাগজের উপর কালির ছাপ মাত্র

বর্তমানে নারী পুরুষ রাষ্ট্রীয় ভাবে সমঅধিকার পেলেও সামাজিক দিক থেকে তার চিত্র সম্পুর্ন ভিন্ন। আমাদের সমাজে এখনো নারীকে চার দেওয়ালের মধ্যে আটকে রাখতে চায়,নারী স্বাধীনতা শুধুই কাগজের উপর কালির ছাপ মাত্র।

সমাজের কাজ মানুষকে সামাজিক করা, এজন্য মেয়েরা রাষ্ট্রীয় ভাবে সমঅধিকার পেলেও সামাজিকভাবে তা পায় না। কারন একটা সমাজ সবসময় চায় তার মধ্যে থাকা সকল ব্যক্তি নিরাপদে থাকুক। একজন নারী যদি ছেলেদের মত বেশি রাতে বাইরে থাকে তাহলে একটা সমাজ সে ঘটনার জন্য কথা তুলবে। আবার কখনো কথা না তুলতেও পারে সেটা নির্ভর করে সে সমাজ মেয়েদের কতটা নিরাপত্তা দিচ্ছে তার উপর।

একটি পরিবারে যখন একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তির মৃত্যু হয়, তখন সে পরিবারের ছোট বাচ্চা কাজ করলেও সমাজ বাধা দেয় না। তবে যখন সেই পরিবারের একজন মেয়ে বাইরে কাজ করতে যাওয়ার কথা ভাবে তখন তার উপর বিভিন্ন বাধা আসে। কেন এই বাধা? তাহলে কি সমাজ চাইনা ঐ পরিবার আবার দাড়াক?

সামাজিকভাবে মেয়েদের বাইরে কাজ করার জন্য বাধা দেওয়া হয়, কারন আমাদের চারপাশটা মেয়েদের জন্য সুরক্ষিত নয়। একটি মেয়ে যখন বাইরে কাজে যাই তখন তার উপর বিভিন্ন মানুষের কুনজর পড়ে। তাই চাইলেই একটি আট বছরের মেয়েও বাড়ির বাইরে কাজে যেতে পারে না।

এমন কিছু দরিদ্র পরিবার আছে যেখানে একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুর পর, সে পরিবারের যুবতী মেয়েও দু’বেলা খাবার যোগাড় করার জন্য খারাপ পথ বেছে নিয়েছে। এই খারাপ জীবন বেছে না নিয়ে সে একটি চায়ের দোকান দিতে পারতো। একটি খাবার দোকান দিতে পারতো। তাহলে খারাপ পথ বেছে নিলো কেনো? দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করলে নানান মানুষের নানান প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে সেই দোকানিকে তাই খারাপ পথই হয়তো তার কাছে সহজ মনে হয়।

সকল বাধা বিপত্তিকে কাটিয়ে যদি মেয়েরা কাজে বের হয় তাহলে একদিন নারী পুরুষ সমঅধিকার কথাটির বাস্তব রুপ আমরা দেখতে পাবো।

এমনি একজন নারী রাহেলা বেগম। স্বামী নেশা করে তাই সংসার ঠিকমত চালাতে অনেক কষ্ট হতো, সংসারে ঝামেলা যেনো লেগেই থাকতো তাই ঘরে বসে না থেকে রাহেলা বেগম নিজেই তার ছেলেকে নিয়ে চটপটি, ফুচকা, মুড়ি, পেয়ারার ব্যবসা শুরু করেন। তারা মা ছেলে মিলে দিনে পাঁচশত টাকার বিক্রি করে যা দিয়ে তাদের সংসার চলে। এই ব্যবসার পাশাপাশি তার ছেলে ভাড়ার অটো চালিয়েও বাড়তি আয় করেন।

প্রথম দিকে তাকে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছিল, তবে বর্তমানে সব বাধা কাটিয়ে সফলতার মুখ দেখছেন রাহেলা বেগম।

স্বাধীনতা কাউকে দেওয়া যায় না, স্বাধীনতা অর্জন করে নিতে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *