১২৬০ টাকা না দেওয়ায় নতুন বইয়ের গন্ধ পেলো না যারা

প্রতি বছরের মত এইবারও বছরের প্রথম দিনে বই উৎসব পালন করা হয়। শিক্ষার্থীরা সেদিন হাতে পায় নতুন বই। নতুন বইয়ের পাতায় হাত বুলিয়ে নতুন নতুন পড়াগুলো দেখার জন্য কেউ কেউ খুবই উৎসুক হয়ে থাকে।

নতুন বইয়ের উৎসবে বিভিন্ন সম্মানীয় ব্যক্তিগন আসেন স্কুল পরিদর্শনে। এজন্য সেই দিন সকল ছাত্রছাত্রীদের বই দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই পরের দিনে সকল ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন বই।

এ বছর বাংলাদেশ সরকার বেশ কিছু স্কুলকে আধা সরকারী থেকে সরকারীতে রুপান্তর করায় যেমন বেশ খুশি শিক্ষকরা ঠিক তার উল্টোটা হয়েছে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের সাথে। আধা সরকারী থাকায় স্কুলের যাবতীয় খরচ কম ছিল এমনটা জানায় স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকগণ।

গতবছর যেখানে সেশন চার্জ ৮০০ টাকা ছিল এইবার সরকারী হওয়ার জন্য তা হয়েছে ১২৬০ টাকা। যা অভিভাবকদের কাছে অনেক বেশি মনে হয়েছে। একজন ছাত্রছাত্রীর এক ক্লাস থেকে অন্য ক্লাসে উত্তীর্ন হয়ার পর সেশন চার্জ ১২৬০ টাকা, স্কুলের নির্দেশনা অনুযায়ী গাইড বই ৪৫০ টাকা, নতুন পোশাক প্রায় ৫০০ টাকা অন্যান্য খরচ বাবদ ২৫০০ টাকার একটি বড় ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে এইবার এমনটায় অভিভাবকগণ জানায়।

কিছু ছাত্রদের সাথে কথা বলার সময় একজন বলে অনেক গুলো বই ছিলো ওগুলো আমাদের দিলে কি এমন হতো? আমরা তো টাকা দিয়ে পড়াশোনা করবো।

এ বিষয়ে কিছু ছাত্র এবং অভিভাবকের সাথে কথোপকথন তুলে ধরছি।

প্রশ্নঃ নতুন বই পেয়েছো?
অংকুরঃ না বই দিলো না। সেশন চার্জ দিতে পারিনি তাই বই দেইনি। স্যার বলেছে টাকা দিয়ে যেনো বই নিয়ে যায়।
প্রশ্নঃ তোমার বন্ধুরা বই পেয়েছে তুমি পাওনি কেমন লাগছে তোমার?
অংকুরঃ আমার খুব খারাপ লাগছে। বই নিবো বলে ব্যাগ নিয়ে এসেছিলাম স্কুলে কিন্তু খালি ব্যাগ নিয়েই যাওয়া লাগবে।
প্রশ্নঃ টাকা দাওনি কেনো?
অংকুরঃ বাবা বলেছে এখন হাতের অবস্থা একটু খারাপ কয়েকটা দিন পর টাকা দিবে।

প্রশ্নঃ আপনার ছেলের সেশন চার্জ কতটাকা লাগলো?
সিরাজুলঃ ১২৬০ টাকা।
প্রশ্নঃ হেড স্যারকে কম টাকা নিতে বলেননি?
সিরাজুলঃ সবাই তো দিচ্ছে তাই আমিও দিলাম। তাছাড়া কেউ তো কিছু বলছে না এই বিষয়ে। আমি একা বলতে গেলে বলবে পড়াতে পারলে পড়াও নাহলে অন্য স্কুলে দিয়ে দাও ছেলেকে।
প্রশ্নঃ অন্যরা কি বলছে এই ব্যাপারে?
সিরাজুলঃ অন্যদের সাথে কথা বলা হয়নি আমার তবে সবার এখন টাকা বেশি তাই সবাই টাকা দিতে কিছু মনে করে না। কিন্তু আমার মত দিনমজুরের পক্ষে এই টাকা অনেক বেশি হয়ে যায়। সরকারী স্কুল হয়ে দেখছি খরচটা বেশি হয়ে গেছে তাহলে সরকারী হয়ে আমাদের কি লাভ হলো? বেসরকারীতে তো ভাল ছিল।

প্রশ্নঃ এইবার যে সেশন চার্জ এতো বেশি আপনারা স্যারের কাছে কম টাকা নেয়ার কথা বলেছেন?
আলেয়াঃ না। স্যারের কাছে বলতে গেলে বকাবকি করবে তাই যায়নি।
প্রশ্নঃ সেশন চার্জ কি আপনার কাছে ঠিক মনে হয়েছে নাকি বেশি মনে হচ্ছে?
আলেয়াঃ দিন দিন যেভাবে পড়াশোনার খরচ বাড়ছে তাতে এই খরচটা আসলেই খুব বেশি মনে হচ্ছে। আর সরকার যে বাচ্চাদের ফ্রী তে বই দিচ্ছে তাহলে সরকারী স্কুলে এতো টাকা কেনো? বইয়ের টাকা তো ছাত্রছাত্রীদের থেকেই তুলে নিচ্ছে। আমাদের এলাকার মানুষের যে ইনকাম তাতে এই স্কুলে পড়াশোনা করানো সবার জন্য সম্ভব হবে না।

এই বিষগুলো নিয়ে স্কুলের শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা নিজেদের ব্যস্ত বলে দাবী করেন। স্কুলে পড়াশোনা করার জন্য প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর অভিভাবক অর্থ খরচ করবে এইটাই স্বাভাবিক কিন্তু অর্থের জন্য নতুন বই বাচ্চাদের হাতে তুলে না দিয়ে টাকার চাপ দেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *