নির্বাচনী প্রচারণায় শিশুরা কেন

নির্বাচনে শিশুরা কাজ করছে এমনি কথা কিছু কিছু পত্রিকায় উঠে এসেছে এবং সেখানে বলা হয়েছে তাদের বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া হচ্ছে যা আইনত অপরাধ। যদিও বিষয়টা ছোট তারপরও একে অবহেলা করার জায়গা নেই।

এই বিষয়ে কিছু বাচ্চার সাথে কথা বলে জানতে পারি

কেনো  তোমরা নির্বাচনী প্রচারণা করছো?

-সবাই ভোট নিয়ে কাজ করছে তাই আমরাও করছি।

কার কথায় এই কাজ করছো?

-কেউ বলেনি করতে আমরা এমনিতেই করছি।

কাজ করে দিনে কতটাকা আয় করছো?

-টাকা কে দিবে আমাদের টাকা পায়নি।

পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে না তোমাদের?

-পরিক্ষা শেষ হয়ে গেছে, রেজাল্ট দিলে তারপর পড়াশোনা শুরু হবে।

বাচ্চাদের যারা অভিভাবক আছেন তারা জানায় যে এই বিষয়টিকে তারা গুরুত্ব সহকারে দেখছেন না। কারন বাচ্চারা যে কাজ গুলো করছে তা নিজ এলাকায় এবং এতে যদি বাচ্চাদের ক্ষতিহত তাহলে অভিভাবকগন এই কাজ করতে অবশ্যই নিষেধ করতেন।

গত ১৯/১২/২০১৮ তারিখে বিবিসির ওয়েব সাইটে প্রকাশিত ছবিগুলো যেমন ছিল

এই ছবিতে বাচ্চাদের দেখে মনে হচ্ছে না যে অর্থের জন্য প্রচারণায় নেমেছে। গ্রাম অঞ্ছলে যখন নির্বাচনী মিছিল হয় তখন রাস্তার পাশে বাচ্চারা দাঁড়িয়ে থাকে পোস্টার নেওয়ার জন্য। ঠিক সেই মুহুর্তে হয়তো তাদের একত্রিত করে কিছুটা পথ হাটিয়ে এই ছবিটি তোলা হয়েছে। এই ঘটনায় বাচ্চাদের কোন লাভ বা ক্ষতির চিত্র খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।

 

২০১৪ সালে প্রকাশিত প্রথম আলোর একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণায় শিশুরা

গ্রাম অঞ্চলের যারা আছেন তারা বুঝতে পারবেন যে এই চিত্রটা কখন দেখা যায়। ফ্রীতে গাড়িতে চড়ার কথা বললে গ্রামের বাচ্চারা দৌড় দিয়ে গাড়ির কাছে চলে আসে ঠিক তেমননি একটি ঘটনা এখানেও হয়েছে।

 

 

 

তবে কি শিশুদের এ প্রচারণার কাজে কোন ক্ষতি হচ্ছে না? না ঠিক তা নয়। কিছু কিছু শিশু আছে যারা এইসব কাজের মাধ্যমে মানব বোমায় পরিনত হবে ভবিষ্যতে। কি গ্রাম অঞ্চলের শিশুদের কথা যদি বলা হয় তাহলে এই কাজটি তারা অন্যান্য উৎসবের মতই মনে করছে তাই মাঝে মাঝে নির্বাচনী কাজে দেখা যায়। তাদের মধ্যে এই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষতি হবে না এবং গ্রাম অঞ্চলের বাচ্চাদের নিষেধ করেও ঘরে আটকে রাখা যাবে না।

কারা এই কাজের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হবে?

শহর অঞ্চলে আপনি  কালু, বুলেট ও হাসান এর মত বাচ্চা পাবেন যাদের জন্মের পর ঘরে জায়গা হয়নি। বাচার তাগিদে আশ্রয় নেয় বাস্তার পাশে, রেলস্টেশনে ও বস্তিতে। এদের দিয়ে টাকার বিনিময়ে যে কোন ঝুকিপুর্ন কাজ আপনি করিয়ে নিতে পারবেন। এদের দিন শুরু হয় অর্থের সন্ধানে তাই এদের লোভ দেখিয়ে যে কোন কাজই করানো যায়। নির্বাচনী প্রচারণায় এরা প্রতিদিন যদি খাবার বাদে ২৫ টাকাও পায় সেটা দিয়ে তারা নেশা করবে। প্রমান দেখতে চাইলে আপনি নিজ চোখে স্টেশানের যে কাউকে জিজ্ঞেস করতে পারেন অথবা নিজে গিয়ে দেখে আসতে পারেন।

আজকে যারা মাত্র ২৫ টাকার জন্য নির্বাচনী প্রচারণায় কাজ করছে কাল তারা ৫০ টাকার জন্য ছিনতাই করবে পরশু তারা ৫০০ টাকার জন্য ছুরি চালাতে হাত কাপাবে না।

নির্বাচনে সঠিক দল ক্ষমতায় আসলে দেশ ও দশের ভাগ্য পরিবর্তন হয় কিন্তু প্রচারণা শেষ হলে এই বাচ্চারা দিনে দিনে মানব বোমায় রুপান্তরিত হতে থাকবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *