লাভজনক ফুচকার ব্যবসা

বেশ কয়েক বছরে বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ফুচকা ব্যবসা। টক ঝাল আর কুড়মুডে স্বাদের ফুচকা মুখে দিলেই যেন এক অন্য রকম অনুভূতি চলে আসে। তাই তো ছোট বড় সকলেই ছুটির দিনে, টিফিনের ফাকে, আড্ডার মাঝে ফুসকার স্বাদ নিয়ে থাকে। গ্রাহকের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে দিন দিন ফুসকার ব্যবসায়ীর সংখ্যাও বেড়ে চলেছে।

তেমনই একজন অনন্ত দাস। সে তার ভাইয়ের দোকানে দিন ছয়শত টাকা নিয়ে কাজ করে। সাত বছর আগে সে ঢাকা থেকে রাজশাহী আসেন তারপর মিষ্টির দোকানে কাজ করতো আর বর্তমানে সে ফুসকা বিক্রি করে রাজশাহী পদ্মা গার্ডেনে।

তার কাছ থেকে জানতে পারি যে ফুসকার দোকানে বেশির ভাগ ছাত্র ছাত্রী আসেন। যখন পরিক্ষা চলে তখন তার দোকানে বেচা কেনা কম হয় তাই সে সময় লাভের পরিমানও কম থাকে।

পদ্মা পাড়ের দোকানগুলোর কোন নাম নেই। কিন্তু প্রত্যেকটি দোকানেই ফুসকা ও চটপটির দাম একই। চটপটি ৩০ টাকা ও ফুসকা ৪০ টাকা। তুলনামুলক দাম কম থাকায় গ্রহকের চাহিদা খুব বেশি থাকে এই দোকানগুলোতে।

জিজ্ঞেস করেছিলাম যে যখন কোন কাস্টমার আপনাদের খাবারের প্রশংসা করে আপনার কেমন লাগে?
অনন্ত দাসঃ খুব ভালো লাগে।
যখন কেউ খাবারের দুর্নাম করে তখন?
অনন্ত দাসঃ ইচ্ছে করে ধরে পদ্মায় ফেলে দেই। এতো কষ্ট করে খাবার বানাই কেউ যদি খারাপ বলে তখন খুবই খারাপ লাগে।

খাবার খেয়ে যেনো কেউ অসুস্থ না হয় সে জন্য তারা কাজ করার আগে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নেয়। তাছাড়াও খাবারের প্লেট ভালো ভাবে পরিষ্কার রাখেন। পানি খেয়ে কেউ যেন অসুস্থ না হয় সে জন্য ফিল্টার করা পানি ও বোতলের পানির ব্যবস্থাও তারা করে থাকে।

যেহেতু তাদের দোকান একটা রাস্তার পাশে তাই সেখানে ধুলা ময়লা থাকে সে জন্য প্রত্যেকটি খাবার তারা ঢেকে রাখে। খাবার যদি স্বাস্থ্যসম্মত না হয় তাহলে কাস্টমার অসুস্থ হবে এবং তাদের ব্যবসায় বড় দুর্নাম হয়ে যাবে তাই কাস্টমারের স্বাস্থ্য নিয়ে দোকানিদের ভাবনা একটু থেকেই যায়।

পদ্মা পাড়ের সকল দোকানের জন্য কোন প্রকার ভাড়া বা চাঁদা দিতে হয় না এমনটাই জানিয়েছেন অনন্ত দাস। তাই ব্যবসায় লাভের পরিমান বেশি হয়। তিনি আরো জানায় যে ফুসকার জন্য যদি ১০০০ টাকা খরচ করা হয় তাহলে লাভ সমেত ৬০০০ টাকা আয় হয় তাদের এবং চটপটিতে ৮০০ টাকার দ্রব্যাদি কিনলে ৭০০০ টাকার কাছাকাছি আয় হয়।

যারা ফুসকা ব্যবসার সাথে জড়িত তারা মনে করেন যে তারা এই ফুসকা, চটপটির ব্যবসায় যথেষ্ট সফল। তাই সামনের দিনগুলোতে তারা খাবারের মান ও সব দিকগুলো বিবেচনায় রেখে কাষ্টমারের চাহিদা পুরন করে যাবে।

রাস্তার পাশে দোকান মানেই ধুলাবালি ময়লা আর অস্বাস্থ্যকর একটা পরিবেশ। কেউ এতে অসুস্থ্য হবে না এমনটা কখনোই বলা যাবে না তবে কাস্টমারের চাহিদার দিক বিবেচনা করে এই দোকানগুলোতে যদি আরো সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে তবে ফুসকা চটপটি খেতে আসা মানুষগুলো সুস্থ্য থাকার নিশ্চয়তা পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *